।। বাক্ ১৪৬ ।। কবিতা ।। সমিধ গঙ্গোপাধ্যায় ।।

 



 

 

 

ফেংশুই

 

নিজের বাড়িকে
ভালবাসতে বাসতে
রান্না ক'রে খাইয়ে দিতে দিতে
সামর্থ্য অনুযায়ী প্রজন্মের গালে
আলতো চাপড় মেরে
ছোটবেলার ধুলো ঝাড়তে ঝাড়তে
নদী কিংবা নদীর মত বানিয়ে ফেলাটা
একরকম ফ্যান্টাসির মদ

এই নেশার কাছে
কঠিনতম বর্ষাকালও পাত্তা পায় না

উঠোনের জলপাই গাছটা
একসময় নদী হয়
পাতা আর টক ফলগুলো
মিষ্টি জলের মাছ হয়ে ছড়িয়ে পড়ে
মেঘের ডাক উপেক্ষা করা
অতিব্যস্ত বেকার চিলেকোঠা
একসময় নদী হয়
মান্ধাতা আমলের তোরঙ্গের ডালা
কাঁসার ঘটিবাটি আর অচল স্ত্রীধন
রোগা ডিঙি
ছিপনৌকা হয়ে ছড়িয়ে পড়ে
শীৎকার
এবং
চিৎকার গোপন রাখা
নানারকম শোবার ঘরও
একসময় নদী হয়--
প্রকাশ্য ও শ্লীল;
ক্রিমের কৌটোর প্যাঁচ
চিরুনির মুচমুচে দাঁড়া
বালিশপত্রিকার খাস্তা আলসেমি
আলনার উঁচুনিচু সুগন্ধিরা
চাকুরে টেকো সমুদ্রের সঙ্গে
বিয়ে নামক
অথবা
পাথরকোঁদা চাপদাড়ি বাঁধের সঙ্গে
প্রেম নামক
কিছু একটা করতে ছড়িয়ে পড়ে

আমার জেদি বাবা শুধু ভিটের ছাদ
আঁকড়ে ঘুমোতেন
পুনর্জন্মের আগে অবধি
একটাও আঙুল তিনি বাঁকাতে চাননি
চারপাশে জলের স্তর বেড়ে গেছে
দিন-কে-দিন
এত শ্যাওলা জমেছে
কান-মাথা টুকু ছাড়া বাড়ি বলে
চেনাও যায়না

অভ্যস্ত আড্ডায় খালি
মাঝে সাঝে মনে হয়
আহা কতদিন হল
বাড়ি যাওয়া হয় নি আমার
এই বাক্যে বসব ব'লে
ছুটি নিই
ব্যাগপত্র গোছাই
বাক্যের পাশে
কি যতিচিহ্ন দেব
ভাবার আগেই একদিন
প্রত্যেকটা শব্দ
তার আ-কার
ই-কার আর বিভিন্ন
উচ্চারণ সুদ্ধু
আমারই মত
পাকাপোক্ত সাঁতারু হয়ে ওঠে

বাবার সঙ্গে দেখা করতে
ভয় লাগে
আমাদের সবার।


No comments:

Post a Comment