।। বাক্‌ ১৪৬ ।। কবিতা ।। অর্ক অপু ।।

 


অনু(পরমাণু)তাপ

 

 

শহরের অভিজাত দোকানগুলো থেকে নজরকাড়া জুতা-জামা-ক্রিম কিনে আনলাম, নিজেকে ঢাকলাম।

তোমার পাশে বসে অনর্গল কথা বললাম, চার হাতের বিশটা আঙুল ফোটালাম, ধরে রাখলাম টানটান সচেতনতা।

 

মাথার উপর দিয়ে একটা সুতাকাটা ঘুড়ি চলে গেল-

ডানা ভাঙা একটি পাখিকে ঘিরে ধরলো কয়েকটি কাক-

বর্শিতে ধরা পড়লো লাল রঙা একটা কার্ফু মাছ-

টোকাই ছেলেটা-

টমির নতুন বাচ্চাকাচ্চা-

বাদামওয়ালা-

ভিক্ষুক মাসী-

 

কারো দিকে তাকাইনি, নিজেকে ঢাকতে কারো কাছে হারাইনি। তবু তুমি-

তবু তুমি- প্রশ্ন করো!

 

লিখছো না- কেন? ঢাকছো? কাকে?

 

"আমি ভাঙিনি, আমি ভাঙিনি কাউকে"

 

 

আমার এক বন্ধুর বাবা স্বর্গে যেতে চেয়েছিল। আমরা তার জন্য জান্নাতের দোয়া করেছি সবসময়। বিষয়টি নিয়ে আমার বন্ধুটি খুব মন খারাপ করে থাকত, আমরা তাকে বোঝাতাম- জান্নাত আর স্বর্গ মূলত একই।

 

বন্ধুটির কাছে গোপন ছিল না- সন্ত্রাসীরা একবার দেবী দূর্গার স্তন কেটে নিয়েছিল, পেসাপ করেছিল মন্দির অভিমুখে। আমার বন্ধুটি চোখ তুলে প্রতিবাদ করেনি কখনো, আমরা করেছি। তবু-

 

বন্ধুটি বিধবা মায়ের সাথে দেশ ছাড়লো। তখন এইখানে- আমার দেশে- ভাইয়ে ভাইয়ে রক্তারক্তি, বোন ধর্ষণ হলো, বাবার গুদাম পুড়ে ব্যবসার ক্ষতি...

 

বন্ধুকে মনে পড়ে, আমার বন্ধুকে-

মালাউন ডাকলে কান্না লুকাত মুখ। 

তার বুক-

আমাদের অসুখেও দিয়ে গেছে ছায়া নাকি পালিয়েছে!

 

সময় বদলেছে, ধর্মের জায়গায় বসেছে পুঁজি,

আমরা কী দেশ বলতে অন্য জায়গা বুঝি?

 

 

পানি আটকাতে জানো- মানুষকে কেনো নয়?

 

মাধবী তোমার কান্না জল,

পতাকা আঁচল,

কোন কোরাসে দিচ্ছ মিল-

লিখছি দলিল- ক্রিয়া,

ভাঙবে না কেন স্বরসন্ধির বিয়া!

 

তোমার অমন পুরুষালি ছড়ি

ঘেন্না করি ঘেন্না করি।

 

অনু(পরমাণু)তাপ

 

 

 

শহরের অভিজাত দোকানগুলো থেকে নজরকাড়া জুতা-জামা-ক্রিম কিনে আনলাম, নিজেকে ঢাকলাম।

তোমার পাশে বসে অনর্গল কথা বললাম, চার হাতের বিশটা আঙুল ফোটালাম, ধরে রাখলাম টানটান সচেতনতা।

 

মাথার উপর দিয়ে একটা সুতাকাটা ঘুড়ি চলে গেল-

ডানা ভাঙা একটি পাখিকে ঘিরে ধরলো কয়েকটি কাক-

বর্শিতে ধরা পড়লো লাল রঙা একটি কার্ফু মাছ-

টোকাই ছেলেটা-

টমির নতুন বাচ্চাকাচ্চা-

বাদামওয়ালা-

ভিক্ষুক মাসী-

 

কারো দিকে তাকাইনি, নিজেকে ঢাকতে কারো কাছে হারাইনি। তবু তুমি-

তবু তুমি প্রশ্ন করো!

 

লিখছো না- কেন? ঢাকছো? কাকে?

 

"আমি ভাঙিনি, আমি ভাঙিনি কাউকে"

 

 

 

 

আমার এক বন্ধুর বাবা স্বর্গে যেতে চেয়েছিল। আমরা তার জন্য জান্নাতের দোয়া করেছি সবসময়। বিষয়টি নিয়ে আমার বন্ধুটি খুব মন খারাপ করে থাকত, আমরা তাকে বোঝাতাম- জান্নাত আর স্বর্গ মূলত একই।

 

বন্ধুটির কাছে গোপন ছিল না- আমরা একবার দেবী দূর্গার স্তন কেটে নিয়েছিলাম, পেসাপ করেছিলাম মন্দির অভিমুখে। আমার বন্ধুটি চোখ তোলেনি, প্রতিবাদ করেনি কখনো। 

 

বন্ধুটি যখন বিধবা মায়ের সাথে দেশ ছাড়লো, তখন এইখানে- আমার দেশে- ভাইয়ে ভাইয়ে রক্তারক্তি, বোন ধর্ষণ হলো, বাবার গুদাম পুড়ে ব্যবসার ক্ষতি...

 

বন্ধুকে মনে পড়ে, আমার বন্ধুকে-

মালাউন ডাকলে কান্না লুকাত মুখ, 

তার বুক-

আমাদের অসুখেও দিয়ে গেছে ছায়া।

সময় বদলেছে, ধর্মের জায়গায় বসেছে পুঁজি,

আমরাও এখন দেশ ছাড়বার রাস্তাটা খুঁজি।

 


No comments:

Post a Comment