।। বাক্ ১৪৬ ।।গুচ্ছ কবিতা ।।সব্যসাচী ভৌমিক ।।

 

 

সব্যসাচী ভৌমিকের কবিতা 

 ফিরে এলাম, বিরতির পর 

 

সিগারেট-অবশেষ, গ্লানি, জলের গ্লাস,

হাত সরিয়ে নেওয়া হাতল, মিথ্যাভিনয়,

একইরকম আছে

 

দ্বিপ্রহরে যা ফেলে এসেছিলাম,

দেড় দশক পর সন্ধের মুখে

বদলায়নি বিশেষ

 

শুধু আঙুলে প্রখর কৃষ্ণদাগ,

দোমড়ানো মোচড়ানো পূর্ব ইউরোপ,

নবগ্রহযজ্ঞের মাদুলি,

নতুন টেবল ল্যাম্পের আলোয়

মৃত বন্ধুদের ছবি দেখতে দেখতে

ফিরে এলাম, বিরতির পর

 

কথা দিলাম, তোমার আঁচল সরিয়ে

কলাবৃত্ত খুঁজতে চাইবো না আর!

শুধু ধাত্রীমুখ, কান্নামুখ

কিছু প্রশ্ন করতে পারে

 

পারলে

ক্ষমা করে দিও

 

 

রাতবিরেতের ক্যাসাব্লাঙ্কা আমায় ক্ষমা করেনি।

শাণিত কবির আঙুলে ক্যাটস আই উঁচিয়ে আছে,

আমিও, তোমার মতো, কাপালিকের দাক্ষিন্যে

আগুন পেরিয়ে যাবো ভাবি

 

অহোরাত্র একটা জার্নাল আমায় পড়তে হয়।

আমি এখুনি সিলভিয়া প্লাথের মতো একজনকে দেখলাম স্বপ্নে

আমিও গ্যাস ওভেনের কাছে গেছি বহুবার

মৃদু আলো, শুকসারীকথা, বর্মিবাক্সের জন্য

সত্তর বছরের পুরোনো ধুলো মাখতে মাখতে

লকগেটের পাসওয়ার্ড ভুলে গেছি বেমালুম

 

তিন বছর আগে দেখা ঝর্ণার আদলে

মৃত্যুবোধ কিভাবে নেমে আসে,

বিরতির পর বোঝা যায় ঠিকঠাক

 

স্থানুবৎ, নির্নিমেষ পর্দার ওপারের দুনিয়া জেগে আছে, জানি

 

 

আতশকাচের আড়াল থেকে এই চক্রব্যূহ,

ব্যোমকেশর চোখ থেকে দেখা সত্যমিথ্যের কারচুপি,

অবমানিতের শোকেস থেকে চুরি যাওয়া অ্যালবাম,

সব জমিয়ে রেখেছি, রেখে দিয়েছি আন্তরীপে

 

আবার ডানাকাটা পরীর জন্য পদ্য লিখবো মাঝরাতে।

 

 

অবলুপ্ত কবির শরীরে

আলতামিরার পুনর্জন্ম হয়

 

একটি মুখর গান

সপাটে জানলায় ধাক্কা মারে

 

ঘেমে আসা হাতের তালুতে

জন্ম-মৃত্যুর গলিঘুঁজি সামলে

পাশবালিশের সান্ত্বনায়

আমিও দেওয়াল বেয়ে উঠে যাবো

 

টিকটিকির মতো। কবির শরীরে।

 

উজবুক বা শ্বাপদ এভাবেই ঘুরে দাঁড়ায় একদিন।

 

 

বাথটবে নামিনি কখনও। বাথটব দেখেছি বহুবার।

যেভাবে প্রজাপতি দেখে মানুষের শরীর

 

যেভাবে ছুঁয়ে দেখে অবিবাহের সাবভার্সন,

স্টেনসিল থেকে উঠে আসা চীনের চেয়ারম্যান,

অন্ধগুলি ঘুরে এসে অনামিকার আত্মসমর্পণ

 

যে কোনো ফিরে আসার মধ্যে যৌনভাব,

সাইকেলে চক্কর দিয়ে ক্লান্তিছাপ, এইসব থাকে

 

এসময় বাথটব দূরে ঠেলে দেয়।

এসময় মাথার চুলে আঠাভাব জুড়ে থাকে

 

খুব

একা

লাগে


1 comment: