তুষার
ভেদ করে
ভার্লাম
তিখোনোভিচ শালামভ
অনুবাদ-
অনুপম মুখোপাধ্যায়
কেমন সেই পথ যা কুমারী তুষারকে
চিরে ও প্রহার করে তৈরি হয়? একটা লোক আগে-আগে হাঁটতে থাকে, ঘামতে ঘামতে, কসম খেতে
খেতে, কোনোক্রমে নিজের পা নাড়াতে পারে সে। সে আটকে যেতে থাকে আলগা গভীর তুষারে। সে
অনেক এগিয়ে হাঁটে, তার হেঁটে যাওয়ার চিহ্ন হিসাবে এবড়োখেবড়ো কালো গর্তগুলোকে সে
বানিয়ে চলে। যখন লোকটা ক্লান্ত হয়, তুষারের উপরেই শুয়ে পড়ে, ঘরে বানানো একটা
সিগারেট জ্বালায়, আর তামাকের ধোঁয়াটা একঠায় ঝুলে থাকে সাদা মিটমিটে তুষারের উপরে
একটা নীল মেঘের মতো। লোকটা এগিয়ে যায়, কিন্তু ধোঁয়াটা সেখানেই ঝুলে থাকে যেখানে সে
বিশ্রাম নিয়েছিল, কারণ বাতাসে তো কোনো গতি নেই। এরকম দিনগুলোতেই রাস্তা বানানো হয়-
যাতে হাওয়া এসে মানুষের পরিশ্রমকে মুছে না দিয়ে যায়। অন্তহীন তুষারের মধ্যে নিজের
অবস্থান নির্দেশ করার জন্য মানুষ কিছু চিহ্ন বেছে নেয়- একটা খাড়া পাহাড়, একটা লম্বা
গাছ। লোকটা তার দেহকে তুষারের মধ্যে দিয়ে সেই একইভাবে টেনে নিয়ে যায় যেমন একজন
কাণ্ডারী এক নদীর নৌকোকে এক অন্তরীপ থেকে আরেকটায় নিয়ে যায়।
পাঁচ
বা ছ জন লোক কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অনুসরণ করে প্রথম লোকটার বানানো সঙ্কীর্ণ
দোদুল্যমান পথটাকে। তারা তার পথের পাশ দিয়ে হাঁটে, কিন্তু সেটার উপর দিয়ে নয়। যখন
তারা একটা পূর্বাহ্নে নির্ধারিত জায়গায় পৌঁছয়, তারা ফিরে দাঁড়ায় এবং পা দিয়ে পিষে
দ্যায় পরিচ্ছন্ন কুমারী তুষারকে যা তখনও কোনো মানুষের পায়ের স্পর্শ অনুভব করেনি।
পায়ে পিষে গিয়ে রাস্তাটা তৈরি হয়ে যায়। সেটাকে ব্যবহার করতে পারবে লোকজন, শ্লেজ,
ট্র্যাক্টর। যদি তারা সরাসরি প্রথম লোকটার পেছন পেছন হাঁটত, তাহলে দ্বিতীয় দলটা এক
নির্দিষ্ট কিন্তু প্রায় চলার অযোগ্য সংকীর্ণ পথ বানাতে পারত, একটা রাস্তা হত না।
সবচেয়ে কঠিন কাজ ছিল প্রথম লোকটার, এবং যখন সে পরিশ্রান্ত হয়ে পড়ে, পাঁচজনের দল
থেকে আরেকজন এগিয়ে গিয়ে তার জায়গা নেয়। তাদের প্রত্যেকেই- এমনকি সবচেয়ে ক্ষুদ্রকায়
ও দুর্বলতম লোকটাও- কুমারী তুষারের একটা অংশকে অবশ্যই প্রহার করবে, এবং কেবলমাত্র
আরেকজনের পায়ের ছাপকে অনুসরণ করবে না। পরবর্তীকালে ট্র্যাক্টর আর ঘোড়া চালিয়ে আসবে
পাঠকরা, তারা আসবে লেখক আর কবিদের বদলে।
(কোলাইমা
টেলস-এর অন্তর্গত একটি আখ্যান)

No comments:
Post a Comment