।। বাক্ ১৪৬ ।। গুচ্ছ কবিতা ।। আশীষ মাহাত ।।

 

 

 

 

লকডাউনের দিনগুলো

 

                                     

 

প্রতিটি দুপুরের একটা নিজস্ব রং থাকে

রোদে ঝলমল করে উঠে গলিপথ

ঘুঘু ডাকে, কাক-চড়াই বসে বাড়ির উঠোনে

তবু এখন সব ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট

বিশ্রী রঙহীন

 

                                       

 

কোন প্রেমিকেই আর চিরকুট হাতে

গলিপথে দাঁড়িয়ে থাকে না

প্রেমিকারও ভীষণ মন খারাপ

              

                                         

 

তরুণদের আড্ডার জায়গায় এখন

সিগারেট,বিড়ির আলো জ্বলে উঠে না বলেই

ক্লাবের ভিতর এক প্রকাণ্ড অন্ধকার বসে আছে

 

                                       

স্কুল কলেজ বন্ধ

ঠিক সময় বাজারের ব্যাগ আসে না

তাই বলে আজ কাল মন খারাপ হয় না

আমার হাতে টিভির রিমোট থাকায়

টুক করে পালটে ফেলি চ্যানেল

      

       

                                       

 

আজ ১১ তারিখ আমার জন্মদিন

আমি বসে বসে ভাবছি

মা রাজরাণী হতে পারতো, বাবা রাজা

যদি আমি সিংহাসন হতাম

 

                                            

 

এখন খাঁ খাঁ দুপুর

সারা শহর ঘুমিয়ে আছে

পৃথিবীর প্রাণ সৃষ্টির আগে থেকে

 

আমি বন্ধুদের সাথে রাত জেগে পার্টি করছি জেনেও

মা খাবার সাজিয়ে বসে আছে

 

                                       

 

সন্ধ্যাবেলা বাড়িতে চৈত্র্য সেল বসে

মা সিরিয়ালে দাম হাঁকে

বাবা খবরে

ভাই দুজনের মুখ চেয়ে চুপ থাকে

 

                                       

 

আমার দাদা একসময় খুব ভালো বন্ধু ছিল

একসাথে বসে মদ খেতাম,রাত জাগতাম

তারপরের গল্পটা তো সবার জানা

ভালো বন্ধু ভালো স্মৃতি হয়

 

                                     

 

আজ ভোররাত দিদির জেঠশ্বশুর মারা গেলো

দিদি বললো এই দ্যাখ আকাশে এক নতুন তারা যোগ হলো

 

                                    ১০

 

একমুহূর্তে আমি হারিয়ে ফেলছি

আমার চাকরি,পকেটে থাকা খুচরো পয়সা

দ্বিতীয় প্রেমিকার দেওয়া শোক

অথচ কিছুতেই হারাতে পারছি না

অসুস্থ মায়ের মেডিক্যাল প্রেসক্রিপসনটা

 

                                      ১১

 

দারুণ শীত পড়েছে

আমি আর ভাই বিছানায় শুয়ে আছি সকাল দশটা অব্দি

 

আর পুরো সংসার

                                 খিদে হয়ে মায়ের ভিতর ঢুকে পড়েছে

এবং মা কাঠের উনুনে ফুঁ দিচ্ছে

 

                                          ১২

 

আগের শীতে মা আমার জন্য

উলের সোয়েটার বুনবে বলে ঠিক করেছিল

কিন্তু গরম তেলের ছ্যাঁকায় মার হাত ফুলে আসায় তা আর হয়নি

এই শীতে মা উল কিনতে গিয়ে দেখে

মুদিখানাতে এই মাসের সব টাকা দিয়ে এসেছে

 

অথচ আমার জন্য উলের সোয়েটার বোনার ভাবনাটা মায়ের পালটায় না

 

                                         ১৩

 

একদা বাবাকে ফল,মূলের গাছ ভেবে

পুজো করে এসেছি

আর মা'কে শেকড়

 

প্রচন্ড খিদেতে বসে আছি আজ

অথচ গাছ থেকে কোনো ফল খসে পড়ছে না

 

                                         ১৪

 

আজ রোববার পাশের বাড়ির

বিরিয়ানির গন্ধ পুরো পাড়া ছড়িয়ে পড়েছে

আমরা সকলেই আজ ঐশ্বর্যের স্বাদ পেলাম

 

                                          ১৫

 

এইসময় কবিতা আসে -

"পূর্ণিমার চাঁদ" যদি "ঝলসানো রুটি" হতো

তাহলে কারো পেটে খিদে পোষা থাকতো না


1 comment:

  1. শব্দের মারপ্যাঁচ নেই। সোজাসাপ্টা। বাস্তব।

    ReplyDelete