খঞ্জরী
♦️
নদীতত্ত্ব পাঠে—
কাশবনে কে
য্যানো থুইয়ে যায় জ্যন্তকয়লা।
দ্বিতীয় জন্মে
বৃক্ষের বাড়ে অনাদর
ঝরো
ঝরো
পিঁয়াজিপাতা।
পিঁচুটিমঞ্জিলে
বেড়ে উঠে কবুতরের ছানা
বিষাদ
জড়ায়
ধরেই
বাঁচে
খঞ্জন,
হুঁশ—
ব্যতীত সবেই পোষ্য-পরাণী।
ভ্রমরের আগমনেই
ভেলায় ফুলায়ু
খঞ্জরী,
একদৃষ্টে ঢুকে যাই তোমার কবরে।
প্রেমস্নান
♦️
তপ্তপথের ধূলোয়
মুড়ানো লোকটিকে কি আপনারা চিনেন?
খরস্রোতা
রক্তাক্ত নদে প্রেমস্নান, সাঁতারকাটা লোকটিকে?
হয়তো চিনেন. .
.
কেউ বলেন মাতাল
কেউ বলেন
উম্মাদ
কেউ বলেন
সাঁতারু
কেউ বলছেন
পাপী!
লোকটি মৃত
পাহাড়ের পাঁজরে ভুল মানুষকে দূরের ভুলে না-ঠেলে ভুল, ঘোষণা দেয়
আমি একজন মাতাল
আমি একজন
উম্মাদ
আমি একজন
সাঁতারু
আমি একজন পাপী.
. .
অবশ্য আমার
আরেকটা পরিচয় আছে যাহা
আপনারা দ্যাখেন
না, জানেন না, শুনেন না,
আমি একজন
প্রেমীক।
আমি যুবতীর
পায়ের রোদে, চোখের মেঘে প্রেম
খুঁজতে খুঁজতে হেমলক খাওয়া একজন মাতাল প্রেমীক,
আমি ধর্ষিতা
বোনের রক্তরঞ্জিত লাশ কাঁধে নিয়ে জড়োসড়ো মানুষের মাঝে,
পোষশাসনের ধারে ধারে দৌড়ানো একজন উম্মাদ প্রেমিক
আমি পিতার
নুনের মাঠে পোড়া ন্যায্যোধিকার না-পাওয়া ফুস্কার পুঁজে সাঁতার কাটা একজন সাঁতারু
প্রেমিক,
আমি ক্ষুধার্ত
মাকে স্বান্তনার বুলি বলতে বলতে চুমোয় চুমোয় ভরিয়ে দেওয়া একজন পাপী প্রেমিক।
আমি একজন
প্রেমীক।
মূলতঃ আমি একজন
শ্রমিক, আমি নারকেলজীবী চোখের হকার।
ওমফুল
♦️
কাউয়ার কুজনে
উড়ে গ্যাছে হেমন্ত
ছাগলের ডাকে
ঝরো ঝরো পেপে
ইঁদুরের গর্তে
ঢুকে পড়ে প্রান্তিক-ক্ষুধা
উঠে আসে
ম্রিয়মান খড়েরমুল
সরু সরু ধান
উড়ে গ্যাছে
বাগান
ধুরো ধুরো
ক্ষুধার্ত ওমফুল
কুকুরের লেজ
ব্যায়ে ধ্যায়ে আসে পৌষ মাঘ
শিয়ালের কানে
জমা পড়ে নিকর-শীত
কুয়াশার যোনিতে
জাগে শীতের সেক্স
সারাবীর্য আটক
বাবলার বুকে
কাপে তরতর
পুড়ে সারঘর
ধোঁয়া আসে
পায়রার মুখে
খামছি মেরে
ছিঁড়ে যায় শারীরিক কম্বল
ওম এখানে
বিপদজ্জনক খরগোশ...
মানুষের মৃত্যু
নেই
♦️
ধরো এখানে
মানুষ জন্মে ছিল
কিন্তু কোথায়
সে মানুষ, কোথায়!
আমি তো
দ্যাখেছি চিলেকোঠার কাক উড়ে যেতে বেজন্মা কুকুর হিংস্র হতে,
হায়েনার দল;
মুখোশের আড়ালে মূখ।
তাহলে কোথায়,
কোথায় মানুষ!
আমি কি মানবো
কাকের ডানায় ভর করে উড়ে যাওয়াটাই মানুষ!
কুকুরের থাবায়
লুকিয়ে থাকা হায়েনার প্রতিচ্ছবি,
মুখোশের মুখই মানুষ!
নাহ,
নাহ, নাহ, এইসবে আমি
মানুষ মানি না।
মানুষ আছে,
এইসবের বাহিরে, আছে মানুষ।
প্রতি বিয়ান,
বিয়াল, সইন্ধ্যা, গভীররাইতে
আছে মানুষ।
একবার ভূতের
ন্যায় উল্টো পথে হাঁইটা দ্যাখো তোমায় ছেঁকে নেবে মানুষ।
ফুলের ন্যায়
নগ্ন হয়ে দ্যাখো, তোমায় ঢেকে নেবে
মানুষ।
মানুষ,
চিরন্তন ছিল আজো আছে, মানুষ;
চিন্তার ভিতরেই
আছে মানুষ;
শুধু মানুষের
মাঝে মানুষ নেই, মানুষের জন্ম আছে বৈ
মৃত্যু নেই।
বিপক্ষে
♦️
আজয়েক বিতর্ক
প্রতিযোগিতায় অঙশগ্রহণ
করেছি,
বিপক্ষে;
বিষয়ঃ
সুশীল মানুষই
দ্যাশগড়ার হাতিয়ার।
পক্ষের বক্তা,
যুক্তিভুক্ত
বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।
আমি বলছি
মানুষ ভজনে
পাওয়া যায়, মানুষ;
পাছে বীর্য
যাইলে যাক পয়সালয়ে, তবু আমি পা'চাটা সুশীল চুদি না. . .
এবং অনুরাগ
♦️
রাইত গোশসা
করলে আসতে আসতে হলুদ হ'য়ে উঠে বিয়ানের
সবুজপাতা,
আমি চেয়ে চেয়ে
দ্যাখি ঝাঁক ঝাঁক কবুতর উড়ার দৃশ্য।
চা'কাপের ধোঁয়ায় উবে যায় দুপুর,
আমার জীবনপথে
অঙকুরিত কাঁটার কার্পেট।
প্রেমীর পায়ে
ঝরো ঝরো সোনাবিয়াল
আমি পায়রার
বয়ানে মিশে যাই, গান গাই।
সিগারেটের অনলে
পুড়ে গোধূলীরায়ু
কাম মূলতঃ একটা
পৌনঃপুনিক সেন্টার্ফ্রুট. . .
চেনা রিঙটোন
বাজে না আর দীর্ঘজীবন
চোখ থেকে উড়ে
যায় ঘুমশালিক
একটা লাশের
ভিতর হেঁটে যায় প্রেমের তালু
লাশটি হিমঘরে
পড়ে থাকে
ময়নাতদন্তে উঠে
আসে অনুরাগ, এবং অনুরাগ।

বেশ ভালো।
ReplyDelete