।। বাক্ ১৪৬।। কবিতা ।। রোমেল রহমান ।।

 



প্রিয়তমা তোমার আরোগ্য হোক

রোমেল রহমান

 

এখন আহত হয়ো না

এভাবে নিজেকে তুচ্ছ উড়িয়ে দিতে নেই

ভয়ানক দুঃসময় আরও আছে সম্মুখ দিনে

তখন দুজনে মিলে ডুবে যাবো অতল জলের কল্লোলে

সাঁতার জানি না বলে সুযোগ যথেষ্ট

এক ঝাঁপে ডুবে যাবো আহা

সলিল সমাধি হলে ধর্মের টানাটানি নেই

নয়নতারার চোখে থাকুক বেদনা

মুমূর্ষু সন্ধ্যার গ্রিলে তখন কারোর থুঁতনির নিচে চাপা পড়া ক্রন্দন

কে ফিরবে কখন... শব্দ পাবো তার হাতে কব্জা খোলার ক্যাঁচ ক্যাঁচ

এখন দুঃখ নিলে আগামিতে নেবে আর কী

এজন্মে ভালোবেসে মরে যাবো আমরা দুজন তারপর জন্মের সাধ নেই বলে

রোজ নেচে নেচে উড়ে উড়ে ঘুরে ঘুরে বেড়াই দুজন

তাই দেখে ঈর্ষা হয়েছে কার

ভেঙে দিতে

করে দিতে সব চুরমার

 

তাই

 

ঈশ্বর

আপনার জন্মপরিচয় দিলে

একটি মামলা দিতে চাই

সেই ঠিকানায়

 

আপাতত কবিতায় অভিযুক্ত থাকুন

 

 

ফলে

 

এ এমন নির্বাসন কিংবা গারদবাসী দিন আচানক

গলে পরছে মোম তবু ফুরাচ্ছে না মাস

বিশ্রাম শেষ হলে আমরা তো পর্বত জয়ের আগুনে ঝাঁপ দেবো

প্রিয়তমা

চুমু নাও কপলে এবং দগ্ধ কপালে

জেনে নিও জানালায় একটি প্রজাপতি বিগত সন্ধ্যা থেকে ঘাঁটি গেঁড়ে আছে

আমাদের বিবাহের ফুল হয়ে তার আগমন পুনরায়

তুমি সেরে গেলে আবার তোমাকে বিয়ে করবো মাদলে ঝড় তুলে

এ আমার খেলা

কিংবা বিপুল খেলাঘরে আমার তেলেসমাতি

 

লাল নীল প্রদীপ শিখায় হাঁসপাতালের সাদা বিছানার ঘরে আমরা দুজন আছি মজ্জুম

নার্স নার্স উড়ে যায় শুভ্র পরীর দল রাজহাঁস যেন

স্ট্রেচার

ট্রলি ঝনঝন

ফিনাইলের চিরায়ত গন্ধের পর

ডাক্তার ডাক্তার ছুটে যাচ্ছে উল্কার মতো কেউ কেউ

 

কে যেন কোথায় একটা কফিনের জন্য আকুল জীবন দিলো

বলে

আর্তনাদের ঢেউ নেমে এলো স্বজনের গাঙে

তার কী যে হল আজ হঠাৎ নিজেকে থামিয়ে দিয়ে সাদা করে দিলো ইহকাল

তুমি কেন আহত আছো

এ তো আমাদেরই কেউ

আমাদেরই বেদনার মতন গোপন এক জীবনের পর তার মনে হল

এইবার যাওয়া যাক অতল সাঁতারে

 

তার বিদায়ের শোক জানালায় ঢেউ হয়ে এলো

আর তুমি খামচে ধরলে এই বাহু

ভয় নেই প্রিয়তমা

আছি আমি

আমরা এখনো আছি ডুব সাঁতারের ঢের বাকি

তার আগে খাল কেটে অনেক কুমির এনে তারপর সমুদ্র যাবো

 

দুধের সরের মতো হে নিমগ্ন ঘুম

তোমার নৈকট্য চাই না বলেই জেগে জেগে দেখি আর পায়চারী করি

খোসা ভেঙে খাই এ জীবন

এক ফুঁৎকারে মোমবাতি ব্যতীত জীবন নিভে যায়

এই কথা ভুল মেনে বেঁচে আছি অটল পাথর

ক্ষয়ে ক্ষয়ে শেষ হলে

তোমার চিবুক চুষে মরে যাবো তিক্ত সায়ানাইড

জীবনের মজমায় ভালোবাসা আছে বলে

টের পাই চিকন পাতলা ওম

গাঁজার আসর ভালো লাগে তাই রোজ শ্রদ্ধায় কল্কে পোড়াই

মধু হয়ে নেমে আসছে চন্দ্রপ্রভা সেই দৃশ্য দেখে মনে হয়

আমাদের সঙ্গের শেষ দিন সবকিছু গলে গলে হেঁটে আসবে আমাদের দিকে

 

স্বৈর সম্রাটের পতন দেখতে যারা গুগোল খোঁড়েন তাদের মতন এক

অপদার্থ জীবন চারদিকে ঘোরে আর হাততালি দিয়ে সুখ নেয়

সম্রাটের হত্যা আরেক সম্রাটের জন্মের পরোয়ানা

তাই বুঝি একিলিস তোমাকে হত্যার জন্য এই দুরভিসন্ধি

গুপ্ত চিহ্নে আঘাতের নিশানা নিরিখ

পুণ্যজল স্পর্শ হোল না বলে এ দুর্বিপাক

নাকি পুরোটাই এক সাজানো গোছানো খেলা

সেই অভিঘাতে তোমারও টেন্ডন ছিড়ে গেলো প্রিয়তমা

কারা দিলো করতালি কারা জিতে পেলো রাজ্য এবার

আমাদের উন্মাদ ঘরে জোনাকির হাহাকার আজ

মানুষ তবুও ভালোবেসে কোলে তুলে নিতে চায় রোজ

শল্যচিকিৎসায় তাই তোমার আরোগ্য হোক

তারপর দেখা যাবে পৃথিবীর একভাগ স্থলে আমাদের সাম্রাজ্য কতদূর

 

২১ নভেম্বর ২০২০


No comments:

Post a Comment